পচেফস্ট্রুম, ৩০ অক্টোবর : ডেভিড মিলারের বিশ্বরেকর্ড গড়া ম্যাচে বাংলাদেশের বিপক্ষে সিরিজের দ্বিতীয় ও শেষ টুয়েন্টি টুয়েন্টি ম্যাচে ৮৩ রানে জয় পেয়েছে স্বাগতিক দক্ষিণ আফ্রিকা। ফলে দুই ম্যাচের সিরিজ ২-০ ব্যবধানে জিতে নিয়েছে প্রোটিয়ারা। মিলার মাত্র ৩৫ বলে টি-২০ ক্রিকেটে দ্রুততম সেঞ্চুরির রেকর্ড গড়েন। শেষ পর্যন্ত ৩৭ বলে ১০১ রানে অপরাজিত থাকেন মিলার।
পচেফস্ট্রুমে টস জিতে এ ম্যাচে প্রথমে ফিল্ডিং বেছে নেন বাংলাদেশের অধিনায়ক সাকিব আল হাসান। দলপতি সাকিবের হাত ধরে শুরুটা ভালো করেছিলো টাইগাররা। দক্ষিণ আফ্রিকার স্কোর ৩৭ রানে পৌছাতেই ২ উইকেট তুলে নেন সাকিব। ওপেনার মাঙ্গালিসো মোসলে ৫ ও তিন নম্বরে নামা প্রোটিয়া অধিনায়ক জেপি ডুমিনি ৪ রান করে সাকিবের শিকার হন।
এরপর ইনিংস মেরামতের কাজ শুরু করেন আরেক ওপেনার হাশিম আমলা ও এবি ডি ভিলিয়ার্স। তৃতীয় উইকেটে ৪১ রান যোগ করেন তারা। ডি ভিলিয়ার্সকে ২০ রানে থামিয়ে দিয়ে বাংলাদেশকে তৃতীয় সাফল্য এনে দেন মোহাম্মদ সাইফউদ্দিন।
ডি ভিলিয়ার্সের বিদায়ে ক্রিজে আমলার সঙ্গী হন মিলার। জুটি বেঁেধই মারমুখী রুপ ধারন করেন দু’জন। ফলে দক্ষিণ আফ্রিকার বড় স্কোর পথ পেয়ে যায়। ৪০ বল মোকাবেলা করে ৭৯ রান যোগ করেন তারা। ব্যক্তিগত ৮৫ রানে থাকা আমলাকে নিজের শিকার বানিয়ে প্রোটিয়ারদের রানের লাগাম চেষ্টা করেছিলেন সাইফউদ্দিন। কিন্তু সেটি হতে দেননি মিলার।
মাত্র ৩৫ বলে সেঞ্চুরির স্বাদ নেন মিলার। দক্ষিণ আফ্রিকার ইনিংসের ১৯তম ওভারে বাংলাদেশের সাইফউদ্দিনের প্রথম পাঁচ ডেলিভারির সবক’টি ছক্কা হাকিয়েছেন মিলার। আর ইনিংসের শেষ ওভারের প্রথম চার বল থেকে ১২ রান নিয়ে মাত্র ৩৫ বলে টি-২০ ক্রিকেটে দ্রুত সেঞ্চুরির বিশ্বরেকর্ড গড়েন মিলার। শেষ পর্যন্ত ৯টি ছক্কা ও ৭টি চারে ৩৬ বলে অপরাজিত ১০১ রান করেন মিলার। ফলে ৪ উইকেটে ২২৪ রানের সংগ্রহ পায় দক্ষিণ আফ্রিকা। বাংলাদেশের সাকিব ও সাইফউদ্দিন ২টি করে উইকেট নেন।
জবাবে ভালো শুরুর ইঙ্গিত দিয়েও বাংলাদেশের টপ-অর্ডার ব্যাটসম্যানরা তাসের ঘরের মত ভেঙ্গে পড়েন। ফলে ৪ উইকেটে ৩৭ রানে পরিণত হয় তারা। ইমরুল কায়েস ৬, অধিনায়ক সাকিব ২, মুশফিকুর রহিম ২ ও সাব্বির রহমান ৫ রানে ফিরেন।
এরপর ঘুরে দাঁড়ানোর চেষ্টা করেছিলেন সৌম্য সরকার ও মাহমুদুল্লাহ রিয়াদ। কিন্তু বেশি দূর যেতে পারেননি তারা। দলীয় ৭২ রানে বিচ্ছিন্ন হয়ে যান তারা। ৬টি চার ও ১টি ছক্কায় ২৭ বলে ৪৪ রান করে আউট হন সৌম্য।
বড় ইনিংস খেলতে ব্যর্থ হয়ে ২৪ রানে থামেন মাহমুদুল্লাহ। ৯ রানের বেশি করতে পারেননি লিটন কুমার দাস। তাই ৯৮ রানের মধ্যে ৭ উইকেট হারিয়ে হার নিশ্চিত করে ফেলে বাংলাদেশ।
শেষদিকে সাইফউদ্দিনের ২৬ বলে ২৩ ও মিরাজের ১০ বলে ১৩ রানের সুবাদে ১৪১ রানে অলআউট হয়ে হারের ব্যবধান কমায় বাংলাদেশ। দক্ষিণ আফ্রিকার ডুমিনি ও ফাঙ্গিসো ২টি করে উইকেট নেন।
ম্যাচ ও সিরিজ সেরা হয়েছেন দক্ষিণ আফ্রিকার ডেভিড মিলার।
স্কোর কার্ড :
দক্ষিণ আফ্রিকা ব্যাটিং :
আমলা ক সৌম্য ব সাইফউদ্দিন ৮৫
মোসলে বোল্ড ব সাকিব ৫
ডুমিনি বোল্ড ব সাকিব ৪
ডি ভিলিয়ার্স ক ইমরুল ব সাইফউদ্দিন ২০
মিলার অপরাজিত ১০১
বেহারদিয়ান অপরাজিত ৬
অতিরিক্ত (লে বা-১, ও-২) ৩
মোট (৪ উইকেট, ২০ ওভার) ২২৪
উইকেট পতন : ১/২৩ (মোসলে), ২/৩৭ (ডুমিনি), ৩/৭৮ (ডি ভিলিয়ার্স), ৪/১৫৭ (আমলা)।
বাংলাদেশ বোলিং :
সাকিব : ৪-০-২২-২,
তাসকিন : ৩-০-৪১-০ (ও-১),
মিরাজ : ৪-০-৪৬-,
রুবেল : ৪-০-৫১-০ (ও-১),
সাইফউদ্দিন : ৪-০-৫৩-২,
মাহমুদুল্লাহ : ১-০-১০-০।
বাংলাদেশ ব্যাটিং :
ইমরুল রান আউট ৬
সৌম্য ক হেনড্রিক্স ব ফাঙ্গিসো ৪৪
সাকিব বোল্ড ব ডুমিনি ২
মুশফিকুর ক মসলে ব ফ্রাইলিন্সক ২
সাব্বির রহমান ক হেনড্রিক্স ব ডুমিনি ৫
মাহমুদুল্লাহ ক আমলা ব ফেলুকুয়াও ৩
লিটন ক ফ্রাইলিন্সক ব প্রিটোরিয়াস ৯
সাইফউদ্দিন ক আমলা ব হেনড্রিক্স ২৩
মিরাজ ক মোসলে ব ফেলুকুয়াও ১৩
তাসকিন রান আউট (মোসলে/ফেলুকুয়াও)৪
রুবেল অপরাজিত ১
অতিরিক্ত (লে বা-২, নো-২, ও-৪) ৮
মোট (অলআউট, ১৮.৩ ওভার) ১৪১
উইকেট পতন : ১/২১ (ইমরুল), ২/২৯ (সাকিব), ৩/৩২ (মুশফিকুর), ৪/৩৭ (সাব্বির), ৫/৭২ (সৌম্য), ৬/৯৩ (লিটন), ৭/৯৮ (মাহমুদুল্লাহ), ৮/১৩০ (মিরাজ), ৯/১৩৭ (তাসকিন), ১০/১৪১ (সাইফউদ্দিন)।
দক্ষিণ আফ্রিকা বোলিং :
হেনড্রিক্স : ২.৩-০-২৮-১ (ও-১),
ডুমিনি : ৪-০-২৩-২,
ফ্রাইলিন্সক : ২-০-৯-১,
প্রিটোরিয়াস : ৩-০-২৭-১,
ফাঙ্গিসো : ৪-০-৩১-২ (ও-১)।
ফেলুকুয়াও : ৩-০-২১-১ (ও-২) (নো-২)।
ফল : দক্ষিণ আফ্রিকা ৮৩ রানে জয়ী।
সিরিজ : দুই ম্যাচের সিরিজ ২-০ ব্যবধানে জিতলো দক্ষিণ আফ্রিকা।
ম্যাচ সেরা : ডেভিড মিলার (দক্ষিণ আফ্রিকা)।
সিরিজ সেরা : ডেভিড মিলার (দক্ষিণ আফ্রিকা)।
মিলারের রেকর্ড গড়া ম্যাচে ৮৩ রানে জিতলো দক্ষিণ আফ্রিকা
